০৬ নভেম্বর ২০২৬ , ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

লাভ-ক্ষতি না ভেবেই আলু চাষে মুন্সীগঞ্জের কৃষক, এবার লক্ষ্য ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর

বিশেষ প্রতিনিধি
আপলোড সময় : ০৬-১১-২০২৬
লাভ-ক্ষতি না ভেবেই আলু চাষে মুন্সীগঞ্জের কৃষক, এবার লক্ষ্য ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর ছবিঃ সংগৃহীত

লাভ হবে নাকি লোকসান—সে হিসাবের তোয়াক্কা না করেই আলু চাষ করেন মুন্সীগঞ্জের প্রান্তিক কৃষকেরা; আলু চাষ তাঁদের কাছে যেন এক ধরনের নেশায় পরিণত হয়েছে। দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী এই জেলায় কৃষকের প্রধান অর্থকরী ফসলও আলু।

চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এদিকে আলুবীজ ও সার সরবরাহের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস সূত্র জানায়, এবারের লক্ষ্যমাত্রা গত মৌসুমের আবাদের সমান ধরা হয়েছে। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে সদরে ৯৫৮১ হেক্টর, টংগিবাড়ীতে ৯০৭০ হেক্টর, লৌহজংয়ে ৩১০৯ হেক্টর, সিরাজদিখানে ৮৯৫৮ হেক্টর, গজারিয়ায় ১৯৯৮ হেক্টর এবং শ্রীনগরে ১৯৪৪ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্য রয়েছে।

ফলন বেশি বলে এখানকার কৃষকেরা মূলত ডায়মন্ড জাতের আলু চাষ করেন। তবে খাবার হিসেবে ছাড়া অন্য কোনো পণ্যে এই আলু ব্যবহার করা যায় না, তাই বাজারে এর চাহিদা কম। স্বাভাবিকভাবে এটি বেশি দিন সংরক্ষণও করা যায় না—বাড়িতে রাখলে পচে যায়, ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকেরা।

চলতি মৌসুমে আলুর বদলে সরিষা, কালিজিরা, গাজর ও ধনিয়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা। গত কয়েক বছর এসব ফসল চাষ করে তাঁরা লাভবান হয়েছেন।

সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের কৃষক আজমির হোসেন বাসসকে জানান, ১৫/২০ দিন পর থেকে আলু আবাদের জন্য জমি তৈরির কাজ শুরু হবে। তিনি প্রতিবছর প্রায় ৫ একর জমিতে আলু চাষ করেন; তবে এবার উঁচু জমিতে আলুর বদলে সিম, টমেটো ও সরিষা চাষ করবেন।

মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বাসসকে বলেন, জেলার কৃষকেরা প্রধানত ডায়মন্ড আলুর চাষ করেন, যার ফলন ভালো হলেও টেকসই কম। তাঁর ভাষ্য, ডায়মন্ডের বদলে চাষের জন্য সানসাইন ও শান্তানা জাতের পর্যাপ্ত আলুবীজ বাজারে আছে; দামও সাশ্রয়ী, মানেও এগুলো উন্নত। খাবার হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি চিপসসহ আলু দিয়ে তৈরি অন্যান্য খাদ্যপণ্যেও এসব আলু ব্যবহার করা যায়।

সম্প্রতি জেলার আলুবীজ ও সার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী সতর্ক করে দেন, সরকার-নির্ধারিত দামের বেশিতে সার ও আলুবীজ বিক্রি করলে কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ডিলারশিপ বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই সভায় প্রতি বাক্স আলুবীজের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য ১৫ হাজার টাকা বেঁধে দেওয়া হয়।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ